অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Nov 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন, পদত্যাগের কারণ জানিয়ে তুললেন চারটি প্রশ্ন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান, জামায়াতের সঙ্গে জোট, নির্বাচনী কৌশল, নারীর রাজনৈতিক অধিকার এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে নিজের মতপার্থক্যের বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সঙ্গে দলটির গত ১১ মাসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নীতিগত অবস্থান ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত সমালোচনা করেন তিনি।

পোস্টে সামান্তা শারমিন জানান, প্রায় এক বছর আগে এনসিপির জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীতিগত কিংবা কৌশলগত কোনো বিবেচনাতেই এনসিপির মিত্র হওয়ার উপযুক্ত নয়। দলটি জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে এর জন্য কঠিন রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছিলেন।

তিনি জানান, গত ১১ মাসে দলের অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ, প্রস্তাব, আলোচনা ও বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। দলের রাজনৈতিক গতিপথ পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে অভ্যন্তরীণ মতাদর্শিক সংগ্রামকেই তিনি গণতান্ত্রিক উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তবে প্রায় এক বছরের সেই প্রচেষ্টার সমাপ্তি টানছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এনসিপির পক্ষে দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধের প্রতি আন্তরিক থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না।

সামান্তা শারমিন বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় পদত্যাগ না করে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক উপলব্ধি থেকেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগের মতো সিদ্ধান্ত নিলেও এনসিপি প্রচলিত রাজনৈতিক ধারার বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারবে না। পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার দলগুলো নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

**জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে আপত্তি**

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সামান্তা শারমিন প্রথমেই জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এনসিপির রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিল রাষ্ট্র সংস্কার। এ ক্ষেত্রে সাংবিধানিক সংস্কার, আইনি সংস্কার এবং রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের কাঠামোগত সংস্কার—এই তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এসব সংস্কারকে নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার অংশ হিসেবে ধারণ করে না বলে তিনি মনে করেন।

তাঁর অভিযোগ, জামায়াত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রকৃত সমর্থক নয়। বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজস্ব রাজনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় সংগঠনটি। ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়া এবং সেই ভূমিকাকে অপরাধ হিসেবে স্বীকার না করাকে তিনি দলটির রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সামান্তা শারমিনের মতে, জামায়াতকে সংস্কারের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করায় উদার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ এনসিপির রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না থাকায় বিভিন্ন ইস্যুতে জামায়াতের প্রভাবের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে এনসিপি। এ বিষয়ে দলের নেতৃত্বকে বারবার সতর্ক করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।

**নির্বাচনী কৌশল নিয়ে সমালোচনা**

দ্বিতীয়ত, ২০২৬ সালের নির্বাচন ও এনসিপির নির্বাচনী কৌশল নিয়ে নিজের আপত্তির কথা তুলে ধরেন সামান্তা শারমিন।

তাঁর মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের নির্বাচন না হয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারত। ১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৭০ ও ১৯৯০ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এসব সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের গতিপথেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছিল।

তিনি মনে করেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার ধারাবাহিকতায় পরিচালিত করার সুযোগ ছিল এনসিপির সামনে। ঐকমত্য কমিশন, নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শক্তিগুলোর সঙ্গে জোট করা অথবা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল দলটির।

কিন্তু বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচয় ও অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনীতির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, নির্বাচনী সাফল্যের চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের দিকে গুরুত্ব দিলে দলটি আরও ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারত।

তিনি আরও জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের মতো নির্বাচনী কৌশলে অংশ না নিয়েও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর পাঁচটি বিকল্প পদ্ধতির কথা দলের নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেসব প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। নির্বাচনী জয়কে রাজনৈতিক জয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় সংস্কার ছাড়াই অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানানোর নৈতিক ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও দলটি হারিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গে শহীদ ওসমান হাদির নির্বাচনী প্রচারণার উদাহরণ টেনে সামান্তা শারমিন বলেন, ঢাকার একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ন্যূনতম ৫০০ ভোট পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি এককভাবে নতুন ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। অথচ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনাকে বড় দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার কারণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এমন যুক্তি অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

**গণঅভ্যুত্থানে নারীর ভূমিকা ও অধিকার উপেক্ষার অভিযোগ**

তৃতীয়ত, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের রাজনৈতিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে এনসিপির অবস্থানের সমালোচনা করেন সামান্তা শারমিন।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে নারীরা সম্মুখসারির যোদ্ধা, আন্দোলনের অনুঘটক ও প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। ব্যারিকেডের সামনে তাঁদের সাহসী অবস্থান আন্দোলনকে সর্বজনীন রূপ দিয়েছিল। নারীদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, ন্যায্য অধিকার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান ছিল আন্দোলনে তাঁদের অংশগ্রহণের অন্যতম ভিত্তি।

তবে বিজয়ের পর পুরোনো রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলো নারীদের আন্দোলনের অর্জন ও রাজনৈতিক পরিসর থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এনসিপির সামনে নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকলেও দলটি তা কাজে লাগাতে পারেনি।

তিনি বলেন, নারীদের শুধু দলীয় সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সাংগঠনিক ক্ষমতায় তাঁদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু এনসিপি পুরোনো রক্ষণশীল রাজনৈতিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ফলে গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যবিরোধী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সামান্তা শারমিনের বক্তব্য, দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাঁদের মতামত উপেক্ষা করার অর্থ দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে রাখা। নারীদের এগিয়ে নিতে বিশেষ সুযোগ, অধিক প্রতিনিধিত্ব, নেতৃত্বের ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নারীদের রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে জামায়াত ও অতি-ডানপন্থী শক্তিগুলোর ভূমিকা রয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এনসিপিও তাদের রক্ষণশীল অবস্থানের অনুসারী হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়ার পরও বিজয়ের পর তাঁদের মর্যাদা ও ক্ষমতা উপেক্ষা করার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, আন্দোলনের সময় নারীদের সাহস ও ত্যাগকে গ্রহণ করা হলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের সমান রাজনৈতিক অধিকার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিশ্চিত না করা বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

**কাউন্সিল ছাড়াই পুনর্গঠনের সমালোচনা**

চতুর্থত, দলের কাউন্সিল আয়োজন না করে পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন সামান্তা শারমিন।

তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানুষ এমন একটি রাজনৈতিক দলের প্রত্যাশা করেছিল, যার নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক কাঠামো হবে প্রচলিত দলগুলোর চেয়ে আলাদা। পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, পরিবারতন্ত্র, স্বজনপ্রীতি, অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব, আর্থিক অস্বচ্ছতা এবং ভিন্নমত দমনের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার প্রত্যাশা ছিল।

তাঁর মতে, দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উপায় হলো নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন। কাউন্সিল না হলে নেতৃত্বের বৈধতা, জবাবদিহি ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। একই সঙ্গে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

কাউন্সিল না করে আবারও আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করায় এনসিপির অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়ে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর মতোই বিরোধী মত দমনের প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও গণতান্ত্রিকতা নিয়ে দলটির দাবির বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সামান্তা শারমিন জানান, এসব বিষয়ে বারবার পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেও এনসিপি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনে আগ্রহ দেখায়নি। এ কারণেই তিনি দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

**বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের রাজনীতির আহ্বান**

পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেন সামান্তা শারমিন। তাঁর মতে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভাজনের রাজনীতির পরিবর্তে ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি, যা ভিন্নমত, বিশ্বাস ও পরিচয়ের মানুষকে একটি অভিন্ন জাতীয় আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করবে। তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এনসিপিকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা ছিল প্রচলিত রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সংকীর্ণ রাজনৈতিক হিসাব ও সিদ্ধান্তের কারণে সেই সম্ভাবনা ক্রমেই সংকুচিত হয়েছে।

তাঁর মতে, একটি দল বা কয়েকজন নেতার সম্ভাবনা হারিয়ে গেলেও নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশের এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োজন, যার লক্ষ্য হবে মানুষকে বিভক্ত করা নয়, বরং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অভিন্ন অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ করা।

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে সামান্তা শারমিন বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নির্ধারিত হতে হবে দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণের ভিত্তিতে। ভারতবিরোধিতা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেওয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতা করতে গিয়ে চীনের স্বার্থের সঙ্গে অবস্থান মেলানো স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশের রাজনীতি হতে পারে না।

তাঁর বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি দেশের স্বার্থবিরোধী হলে যেমন তার বিরোধিতা করতে হবে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করতে হবে। কোনো দেশের ক্ষেত্রে আপসহীনতা এবং অন্য দেশের ক্ষেত্রে নীরবতা বাংলাদেশের স্বার্থভিত্তিক রাজনীতি নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একই সঙ্গে নারীর স্বাধীন রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। জাতীয় পুঁজির বিকাশ ও সুরক্ষা, দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস এবং দেশের সম্পদ ও নীতিনির্ধারণে জনগণের স্বার্থ প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোও নতুন রাজনৈতিক শক্তির কর্মসূচিতে থাকা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

সামান্তা শারমিন বলেন, তরুণদের সামনে এখন শুধু নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের চ্যালেঞ্জ নেই; বরং এমন একটি রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে, যেখানে ভিন্নমত ও মতাদর্শের পার্থক্য থাকলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভিন্ন লক্ষ্য অক্ষুণ্ন থাকবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের স্বার্থের ঊর্ধ্বে কোনো বিদেশি শক্তির অবস্থান থাকতে পারবে না।

পোস্টের শেষাংশে নিজের রাজনৈতিক উদ্যোগে আগ্রহীদের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে সামান্তা শারমিন বলেন, তাঁদের সঙ্গে নিয়েই তিনি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চান।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

1

চীনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরখাস্ত

2

সিনেমা সমাজের মানসিকতা পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্যমন্ত

3

জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তির

4

দুর্নীতি ও লুটপাটে ধ্বংস হয়েছে স্বাস্থ্যখাত: স্বাস্থ্যমন্ত্র

5

‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে গণতন্ত্রের কোনো মিল নেই’ — মির্জা ফখরুল

6

বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে: মৎস্য

7

রাজনৈতিক পরিচয় নয়, অপরাধী অপরাধীই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

8

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে চীনা মন্ত্রীর বৈঠক, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোর

9

উচ্চশিক্ষায় আসন সংকট নেই, সাড়ে ৬ লাখ উত্তীর্ণের বিপরীতে প্রা

10

নিরাপদ অভিবাসন ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিতের আহ্বান র

11

সার্ক পুনরুজ্জীবন ও বাণিজ্য বাড়াতে নেপালের সহযোগিতা চান মন্ত

12

অবসর নয়, ঘুমাতে যাওয়ার কথা বলেছিলাম: অমিতাভ বচ্চন

13

হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধি চর্চায় গড়ে উঠবে সুস্থ প্রজন্ম: স্থা

14

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ:

15

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা এলজি

16

বিনিয়োগ ও এলএনজি সরবরাহে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বা

17

নিজের কলেজে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের দিলেন দেশ গড়ার বার্

18

গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্প এক বছরের মধ্যে শেষ করার নির

19

পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দে

20