
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন।
রাজধানীর মগবাজারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অডিটোরিয়ামে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে একজন সাহসী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে সংগ্রামের পথে উদ্বুদ্ধ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার নেতৃত্ব ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি উল্লেখ করেন, তেলিয়াপাড়া সম্মেলনে জিয়াউর রহমানের প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুদ্ধকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করা এবং সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, যা মুক্তিযুদ্ধকে আরও সংগঠিত ও কার্যকর করতে সহায়তা করে।
আহমেদ আযম খান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক সংস্কারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা, আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক। তার নেতৃত্বে উৎপাদনমুখী অর্থনীতি ও জাতীয় উন্নয়নের নতুন ধারা সূচিত হয়েছিল।
মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মিলনায়তনের সংস্কার এবং আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ২০ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের বেদখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার আদর্শ অনুসরণ করে গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।