অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Jun 8, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জনগণের করের টাকা অপচয়ের অধিকার কারও নেই: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, দেশের বাজেটের অর্থ জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকা থেকে আসে। তাই সেই অর্থ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ছলচাতুরি, টালবাহানা, অপচয় কিংবা অযৌক্তিক ব্যয় করার অধিকার কাউকে জনগণ দেয়নি। তিনি বলেন, শুধু নিবন্ধিত করদাতারাই নন, দেশের প্রতিটি মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রের রাজস্বে অবদান রাখেন। ফলে বাজেটের প্রতিটি টাকার ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আমানতদারিতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের আগামী অর্থ বছরের বাজেট: আমাদের ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, দেশে প্রায় এক কোটি নিবন্ধিত করদাতা রয়েছেন, যারা নিয়মিত আয়কর প্রদান করেন। তবে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি কেবল আয়করের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের জীবনযাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ে পণ্য ক্রয়, সেবা গ্রহণ এবং নানা ধরনের লেনদেনের মাধ্যমে কর প্রদান করেন। এমনকি একজন দরিদ্র মানুষও তার দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় রাজস্বে অবদান রাখেন। তাই বাজেটের অর্থ জনগণের আমানত এবং তা যথাযথভাবে ব্যয় করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রতিবছর জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করে এবং সংসদে তা অনুমোদিত হয়। কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নজরদারি, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতার ঘাটতি প্রায়ই পরিলক্ষিত হয়। এর ফলে জনগণের অর্থের একটি বড় অংশ অপচয়ের শিকার হয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থের অপব্যবহার ঘটে।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ক্রয়সংক্রান্ত দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অর্থ পাচারের কারণে জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ যাতে অপচয় না হয় এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ন্যায়ভিত্তিক সম্পদ বণ্টন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শরীয়াহভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিমালা একটি কার্যকর উপকরণ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ, সোহরাব হোসেন, গোলাম মসিহ, ইঞ্জিনিয়ার এম এ এম গোলাম কিবরিয়া, মাওলানা মোফাজ্জল ইবনে মাহফুজ, অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসের, মোহাম্মাদ নিজাম উদ্দিন এবং মুজিবর রহমান শামীম।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন মাওলানা ইউনুস আহমদ, মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, আশরাফ আলী আকন, মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, আতিকুর রহমান মুজাহিদ, শেখ ফজলুল করীম মারুফ, কে এম শরীয়াতুল্লাহ এবং ইমরান হোসেন নুর।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংশোধিত এসআরবি বিল সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ

1

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের আহ্বান শফিকুর রহম

2

এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি

3

বগুড়ার উন্নয়নে রেলপথ, বিমানবন্দরসহ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পন

4

বেসরকারি খাত থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ

5

ঢাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ২০ টিম, অনিয়মে জরিমানা ও সরকারি বা

6

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ গণমাধ্যম: রাষ্ট্রপতি

7

এনসিপিতে যোগ দিয়ে মেয়র নির্বাচন করার বিষয়ে যা বললেন মনজুর আল

8

সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অধ্যাদেশ

9

ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্প উদ্বোধ

10

টেকসই উন্নয়নে বিএসটিআই আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা শিল্পমন্ত্রী

11

গুলশান ও ধানমন্ডিসহ রাজধানীর একাধিক লেকের দূষণ রোধে সমন্বিত

12

হাম রোগের সর্বশেষ প্রতিবেদন

13

মানব পাচার দমনে উইনরকের সহযোগিতা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প

14

RDMS চালু করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

15

চীনের সহযোগিতা বাড়াতে এলজিআরডি মন্ত্রীর প্রস্তাব

16

দুই মাসে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ওয়াসার ব্যর্থ কর্মকর্তাদের

17

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হয়রানি, ঢাকার তীব্র নিন্দা

18

তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ শতাংশের বেশি

19

চেয়ার কার, দায়িত্ব কার?

20