অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Jun 8, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

মোসাদ্দেককে নিয়ে আশাবাদী মিরাজ, দলে দেখছেন বাড়তি ভারসাম্য

দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন তিনি। তার প্রত্যাবর্তনে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। দলের ভারসাম্য রক্ষায় মোসাদ্দেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করছেন তিনি।

জাতীয় দলে ব্যাটিং অলরাউন্ডারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মিরাজ বলেন, একজন অতিরিক্ত অলরাউন্ডার দলে থাকলে অধিনায়কের জন্য কৌশল নির্ধারণ অনেক সহজ হয়ে যায়। ঘরোয়া ক্রিকেটে মোসাদ্দেকের ধারাবাহিক সাফল্য তাকে নতুন করে জাতীয় দলের দরজা খুলে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডের আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, মোসাদ্দেক যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেন, তাহলে তা শুধু তার জন্য নয়, পুরো দলের জন্যই বড় সহায়তা হবে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে এবং সুযোগ পেলে তিনি ভালো করবেন বলেই বিশ্বাস অধিনায়কের।

মিরাজের মতে, পাঁচজন মূল বোলার নিয়ে খেলতে নামার পরও যদি একজন কার্যকর ব্যাকআপ বোলার থাকে, তাহলে দলের ভারসাম্য আরও শক্তিশালী হয়। কোনো বোলারের খারাপ দিন গেলে বিকল্প হিসেবে মোসাদ্দেকের মতো একজন অলরাউন্ডার অধিনায়কের জন্য বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, মোসাদ্দেক শুধু ব্যাট হাতেই নয়, বল হাতেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত উইকেট শিকার এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিং তাকে দলে বিশেষ মূল্য যোগ করার সুযোগ করে দিয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে তার ওপর আস্থা রাখছেন বলেও জানান মিরাজ।

মোসাদ্দেকের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের পেছনে রয়েছে অসাধারণ ঘরোয়া পারফরম্যান্স। আবাহনীর হয়ে গত তিন মৌসুমে ব্যাট ও বল হাতে সমানভাবে উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। এই সময়ে ১ হাজার ২৭৮ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ৫৮ উইকেট। চলতি মৌসুমে মাত্র আট ম্যাচে ৭৭.৫০ গড়ে ৩১০ রান করার পাশাপাশি শিকার করেছেন ১২ উইকেট। বল হাতে তার ইকোনমি রেট ছিল মাত্র ৩.৭৪।

দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা সত্ত্বেও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন মোসাদ্দেক। অনেকের মতে, তার উপেক্ষিত থাকার অন্যতম কারণ ছিল দলে মিরাজের উপস্থিতি। তবে এই ধারণাকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

মিরাজ স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতেও তারা একসঙ্গে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপেও দুজন একই দলে ছিলেন। তার মতে, দুজনের ভূমিকা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মোসাদ্দেক মূলত ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আর তিনি নিজে বোলিং অলরাউন্ডার। ফলে একজনের উপস্থিতি অন্যজনের জায়গা সংকুচিত করে—এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন।

পরিসংখ্যানও বলছে, জাতীয় দলে মোসাদ্দেকের খেলা ৪৩ ওয়ানডের মধ্যে ২৭ ম্যাচেই সতীর্থ ছিলেন মিরাজ। ফলে নতুন করে দুজনের সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, সেদিকে নজর থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে মোসাদ্দেকের প্রত্যাবর্তন শুধু একজন ক্রিকেটারের কামব্যাক নয়, বরং বাংলাদেশ দলের জন্য একটি নতুন বিকল্প ও বাড়তি শক্তির উৎস হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্বিতীয় অধ্যায়ে তিনি কতটা সফলভাবে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করবে সরকার

1

বিএনপির দুই নেতার মৃত্যুতে ঢাকা ওয়াসা জাতীয়তাবাদী এমপ্লয়িজ ই

2

নবসৃষ্ট বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নামফলক উন্মোচন।

3

একনেকে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

4

সব মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত

5

পুঁজিবাজারে ৮ মাসে বিদেশি লেনদেন বেড়েছে ৩৭.৬ শতাংশ

6

মোংলা বন্দর ও বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে খুলনা-বাগেরহাট

7

তারেক রহমান: বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে

8

পরিবার ও কমিউনিটি থেকেই শুরু হবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা: প

9

দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রে ভিড়, চাঙা স্থানীয় অর্থনীতি

10

তারেক রহমানের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অঙ্গীকারের প্রশংসা তাকা

11

ঢাকার ৫৫ খালের পাড়ে হবে রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে

12

খেলায় রাজনীতির আগ্রাসন, ভারতের কড়া সমালোচনায় উইজডেন

13

স্বচ্ছ নিয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবীরাই সুযোগ পাচ্ছেন -ভূমি

14

নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভ ছড়াচ্ছে ভারতে

15

টেকসই এলডিসি উত্তরণে আরও সময় চায় বাংলাদেশ

16

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যেও ৭ মাসে বিদেশে গেছেন ৪ লাখ ৩৪ হাজ

17

পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এমপিও জালিয়াতির অভিযোগ, ভারপ্রা

18

কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের আশা হু

19

পরিকল্পনা ও সদিচ্ছায় পরিচ্ছন্ন-পরিবেশবান্ধব এলাকা গড়া সম্ভব:

20